সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পুষ্টি, সুস্বাস্থ্য এবং দেশীয় ফলের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে ব্যতিক্রমী 'ফল উৎসব' আয়োজন করেছে স্বদেশ মৃত্তিকা আদর্শ বিদ্যানিকেতন। আয়োজনে ছিল আনন্দ, শৃঙ্খলা এবং স্বাস্থ্যসচেতনতার এক অনন্য সমন্বয়।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে একঝাঁক কোমলমতি শিশুর হাতে ছিল নানা ধরনের পুষ্টিকর ফল, আর মুখজুড়ে ছিল নির্মল হাসি। অনুষ্ঠানের শুরুতেই শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধুয়ে নেয়। এরপর তারা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে নিজ নিজ পছন্দমতো ফল প্লেটে তুলে নেয়। শিশুদের শৃঙ্খলাপূর্ণ অংশগ্রহণ পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।
উৎসবে মোট ৮ প্রকারের দেশীয় ও পুষ্টিকর ফল পরিবেশন করা হয়। এর মধ্যে ছিল আম, জাম, লটকন, কাঁঠাল, পেয়ারা, কলা, আনারস ও ড্রাগন ফল। ফল খাওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের প্রতিটি ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কেও ধারণা দেওয়া হয়, যাতে তারা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে উৎসাহিত হয়।
অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন সংস্থা এবং অর্থায়ন করেন জনাব মুহাম্মাদ নুরুস সাবাহ মিঠু। আয়োজকরা জানান, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অনেকেরই একসঙ্গে এত বৈচিত্র্যময় ফল খাওয়ার সুযোগ হয় না। তাই তাদের মুখে আনন্দের হাসি ফোটাতে এবং পুষ্টিকর খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়াতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
অর্থায়নকারী জনাব মুহাম্মাদ নুরুস সাবাহ মিঠু-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আয়োজকরা বলেন, সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতাই এ ধরনের কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে সবচেয়ে বড় শক্তি।
স্বদেশ মৃত্তিকা মানব উন্নয়ন সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুন্দর শৈশব নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও শিশুদের কল্যাণে এ ধরনের মানবিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
শেষে আয়োজকদের আহ্বান— সমাজের সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ান। সম্মিলিত উদ্যোগই পারে তাদের জন্য একটি সুন্দর, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় আগামী গড়ে তুলতে।
স্বদেশ সময়