ঢাকা | বঙ্গাব্দ

সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে বাবাকে হত্যা, দুই বছর পর গ্রেপ্তার ঘাতক ছেলে ও তার সহযোগী

  • প্রতিনিধির নাম : | নিউজটি দেখেছেনঃ 297 জন
সম্পত্তি বিক্রি ঠেকাতে চট্টগ্রামে বাবাকে হত্যা, দুই বছর পর গ্রেপ্তার ঘাতক ছেলে ও তার সহযোগী ছবির ক্যাপশন:
ad728

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে সম্পত্তি বিক্রি বন্ধ করতে নিজের বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে দুই বছর পর ছেলে বেলাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একই ঘটনায় তার সহযোগী হিসেবে এক স্বজনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ১৪ জুন(রবিবার) আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বেলাল হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই সূত্র জানায়, নিহত মীর মুজিবুর রহমান (৬০) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব চাম্বল এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় বাবুর্চি ছিলেন। তিনি চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য নিজের মালিকানাধীন জমি বিক্রি করছিলেন। একপর্যায়ে অবশিষ্ট ভিটেমাটিও বিক্রির উদ্যোগ নিলে ক্ষুব্ধ হন প্রথম স্ত্রীর ছেলে বেলাল হোসেন।
তদন্তে জানা যায়, জমির দালাল পরিচয়ে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করে সম্পত্তি বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হন বেলাল। পরে এক নারী বন্ধুর মাধ্যমে বাবাকে ফাঁদে ফেলার পরিকল্পনা করেন নিজেরই ছেলে বেলাল। ওই নারী নিহত মুজিবুর রহমানের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে কৌশলে মোবাইল ফোনে সম্পর্ক গড়ে তুলে মুজিবুর রহমানকে চট্টগ্রাম নগরীতে দেখা করার জন্য ডেকে আনেন।
২০২৪ সালের ৭ জুন নগরের বাকলিয়া এলাকার একটি বাসায় গেলে ঘাতক ছেলে বেলালের সুপরিকল্পনায় ঐ নারী শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে মুজিবুর রহমানকে অচেতন করা হয়। পরে রাতের যেকোন সময় তাকে প্রথমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এবং পরে একটি মাইক্রোবাসে করে চট্টগ্রাম নগরের আউটার রিং রোড এলাকায় নেওয়া হয়। সেখানে বেলাল ও তার সহযোগী আবদুল জলিল গলায় গামছা পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করে রাস্তার পাশের জঙ্গলে লাশ ফেলে দেয়।
পরদিন হালিশহর রিং রোড এলাকার জঙ্গল থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরিচয় শনাক্ত করতে না পারায় লাশটি বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সালমা বেগম ২০২৪ সালের ১০ জুলাই আদালতে অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে মামলাটি প্রথমে কোতোয়ালি থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব পায়।
দীর্ঘ তদন্ত শেষে গত শনিবার নগরের মইজ্জারটেক এলাকা থেকে বেলাল হোসেনকে এবং মিরসরাই থেকে তার ভায়রা আবদুল জলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বেলাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সম্পত্তি রক্ষার উদ্দেশ্যেই বাবাকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন বেলাল। ঘটনায় জড়িত ওই নারীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানান পুলিশ।
নিহতের মেয়ে সালমা বেগম বলেন, “জন্মদাতা বাবাকে যে সন্তান হত্যা করেছে, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো সন্তান এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।”

নিউজটি পোস্ট করেছেন : স্বদেশ সময়

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছে  বিএনপি নেতা মোঃ মোশারফ

পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছে বিএনপি নেতা মোঃ মোশারফ