Logo
প্রিন্টের তারিখ: 01 June 2026 | প্রকাশের তারিখ: Jun 1, 2026

News Headlines : ট্রাম্পের প্রভাবের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের জটিল পরিস্থিতি

ট্রাম্পের প্রভাবের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ, ইউরোপের জটিল পরিস্থিতি
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নতুন উদ্যোগের ভবিষ্যৎ যা-ই হোক না কেন, ইউরোপের আশঙ্কা হলো, সম্ভাব্য চুক্তি রাশিয়াকে ‘প্রাপ্য’ শাস্তি দেওয়ার বদলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে সহায়তা করবে। এতে ইউরোপের নিরাপত্তা আরও ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগে আছেন আঞ্চলিক নেতারা।

ইউরোপকে হয়তো এই বাস্তবতাও মেনে নিতে হবে যে, ন্যাটোর অন্যতম কাণ্ডারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় ‘ঝুঁকি’ রাশিয়ার মধ্যে একটা স্থিতিশীল অংশীদারত্ব গড়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২৮ দফার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব, যা অনেকের চোখে ছিল রাশিয়াপন্থী, তার কিছু অংশ ইউক্রেন এবং ইউরোপীয় দেশগুলোর দাবির কারণে পরিবর্তিত হয়েছে। তবুও সম্ভাব্য যেকোনও চুক্তিতে ইউরোপের প্রভাব খুব সীমিত—কারণ চাপ প্রয়োগ করার মতো সামরিক শক্তি তাদের নেই।

ফ্লোরিডায় সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র–ইউক্রেন আলোচনায় ইউরোপের মিত্রদের কোনও প্রতিনিধিত্ব ছিল না। আর মঙ্গলবার যখন মার্কিন বিশেষ প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করবেন, ইউরোপের নেতারা কেবল দূরে বসে তা পর্যবেক্ষণ করবেন।

ব্রাসেলস ইনস্টিটিউট ফর জিওপলিটিক্সের প্রতিষ্ঠাতা লুক ভান মিডেলার বলেন, ধীরে ধীরে ইউরোপ বুঝতে পারছে, শেষ পর্যন্ত একটি বাজে চুক্তিই হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টতই একটি চুক্তি চান আর তা হবে পেশিশক্তির দাপটে।

ইউরোপকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা রুবিওর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অবশ্য বলেছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা নিয়ে আলোচনায় ইউরোপীয়দের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা এতে খুব একটা স্বস্তি পাচ্ছেন না। তাদের মতে, সম্ভাব্য প্রতিটি সিদ্ধান্ত—সীমান্ত ইস্যু, যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা বা নিরাপত্তার প্রশ্ন—ইউরোপকে গভীরভাবে প্রভাবিত করবে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে, ন্যাটোর প্রতি মার্কিন অঙ্গীকার এবং যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে ইউরোপের নিরাপত্তা প্রশ্নও আবার সামনে এসেছে।

জার্মান প্রতিরক্ষামন্ত্রী বোরিস পিস্টোরিয়াস বলেন, ভবিষ্যতে কারও ওপর নির্ভর করা যাবে কিনা, এ নিয়ে আমরা এখন আর নিশ্চিত নই।

যদিও ট্রাম্প আগে ন্যাটোর সমালোচনা করেছিলেন, তিনি জুনে ন্যাটো সনদের পঞ্চম অনুচ্ছেদের প্রতি (আর্টিকেল ফাইভ) অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তবে বিনিময়ে ইউরোপীয়দের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধির চাপ দেন। তবে ব্রাসেলসে ন্যাটো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রুবিওর অংশগ্রহণ থেকে বিরত থাকায় ইউরোপকে আবারও উদ্বিগ্ন করেছে।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোহান ভাডেফুল বলেন, আমাদের গোয়েন্দারা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে—সর্বোচ্চ ২০২৯ সালের মধ্যে, ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের সম্ভাবনা খোলা রেখেছে রাশিয়া।

ছাড় দিলে পুতিনের আরও আগ্রাসী হওয়ার আশঙ্কা ইউরোপীয় কর্মকর্তারা বলছেন, পুতিনের যুদ্ধ থামানোর কোনও লক্ষণ নেই। কিন্তু যদি তিনি চুক্তিতে রাজি হনও, ইউক্রেনের দখলকৃত ভূখণ্ড রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রেখে দিলে মস্কো আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার ডনবাসের বাকি অংশ দখলের দাবি পুরোপুরি বাতিলও করেনি। এদিকে, ট্রাম্পসহ মার্কিন কর্মকর্তারা স্পষ্ট বলেছেন, যুদ্ধ শেষ হলে রাশিয়ার সঙ্গে বড় আকারের ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরি হবে।

ইউরোপের আশঙ্কা, রাশিয়া যদি আবার পশ্চিমা অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়, তবে তাদের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের জন্য ব্যাপক অর্থায়নের সু্যোগ পাবে।

ইইউ পররাষ্ট্রনীতির প্রধান কাজা কালাস বলেন, রাশিয়ার সেনাবাহিনী বড় হলে এবং তাদের বাজেট এখনকার মতো থাকলে, তারা আবারও শক্তি প্রয়োগ করতে চাইবে।

ইউরোপের প্রভাব কম, কারণ পেশিশক্তি কম ২০২২ সালের রুশ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনকে ১৮০ বিলিয়ন ইউরো সহযোগিতা দিয়েছে ইউরোপ, কিন্তু তবুও তারা আলোচনার টেবিলে প্রভাবশালী ভূমিকা রাখতে পারছে না।

ইইউর বড় কার্ড হলো রাশিয়ার জব্দ করা সম্পদ। কিন্তু ১৪০ বিলিয়ন ইউরোর ঋণ প্যাকেজ হিসেবে ইউক্রেনকে সহায়তা দিতে সেই সম্পদ ব্যবহার করার সিদ্ধান্তেও ঐকমত্য নেই।

এর মধ্যে ফ্রান্স–ব্রিটেনের নেতৃত্বে কয়েকটি দেশ যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তার জন্য "রিএশিউরেন্স ফোর্স" গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে রাশিয়া এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া এমন একটি বাহিনীর কার্যকারিতা সীমিত হবে।

জার্মান মার্শাল ফান্ডের ক্লাউডিয়া মেজর বলেন, বছরের পর বছর সামরিক সক্ষমতায় বিনিয়োগ না করার মূল্য এখন ইউরোপকে দিতে হচ্ছে। তারা টেবিলে নেই—কারণ ট্রাম্পের ভাষায়—তাদের হাতে কোনও ‘কার্ড’ নেই।
All Rights Reserved By Shadin Ekattor News
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF